নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। দুর্যোগে নিখোঁজ থাকা অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং।
দুর্গতদের উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য ৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক ত্রাণ তহবিল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
বাড়ছে নিখোঁজ ও প্রাণহানির সংখ্যা:
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বুধবার রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় মুহূর্তের মধ্যে কাদা ও পাথরের ধস নেমে এসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। বন্যায় সড়ক, সেতু ও নদীসংলগ্ন জনপদ তছনছ হয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার প্রাথমিকভাবে ৩৯ জন নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানালেও সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে তা ৪১ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজদের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলস (সিডনি) ও মেলবোর্ন থেকে তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বত ও মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় যাওয়া শিশুসহ ১৫ সদস্যের একটি পরিবার-বন্ধু দল এবং ‘ইশা ফাউন্ডেশন’-এর ট্রেকিং দলের সদস্যরা রয়েছেন। প্রবল বন্যা ও ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার জরুরি তৎপরতা ও কনস্যুলার সহায়তা:
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সান্ডার অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, নিখোঁজ নাগরিকদের অবস্থান নিশ্চিত করা ও তাদের পরিবারকে কনস্যুলার সেবা প্রদানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নেপালে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ জন অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তা মোতায়েন রয়েছেন এবং সহায়তার জন্য একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হচ্ছে।
পেনি ওং বলেন, “এটি এক বিপর্যয়কর ঘটনা। নিখোঁজ প্রতিটি সংখ্যার পেছনে জড়িয়ে আছেন একেকটি ভালোবাসার মানুষ—বাবা-মা, সন্তান ও স্বজন।” অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের জরুরী সাহায্যের জন্য পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তরের ২৪ ঘণ্টার কনস্যুলার হেল্পলাইনে (+61 2 6261 3305) যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।
৫ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা:
ঘোষিত ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তার বণ্টন যেভাবে করা হবে:
২ মিলিয়ন ডলার: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূchi জরুরি খাদ্য ও সরবরাহের জন্য দেওয়া হবে।
২ মিলিয়ন ডলার: অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ব্যয়ের জন্য।
১ মিলিয়ন ডলার: ‘ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স’-এর মাধ্যমে স্থানীয় অংশীদারদের ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তা দিতে প্রদান করা হবে।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থানরত সকল অস্ট্রেলীয় নাগরিককে স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে ক্যানবেরার পক্ষ থেকে কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



