আগস্ট মাসে সারাদেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত এবং ৬৬৪ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির হিসাবে, জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৪১ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেও আগস্টে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫১ জনে। ফলে আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।
আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি সাতটি নৌ দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত এবং ৩৪টি রেল দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে আগস্টের পরিবহন দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন শিশু। ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশেই মোটরসাইকেল জড়িত ছিল।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—১৭২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৪ জন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, ১৫টি; এতে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বগুড়ায়। রাজধানী ঢাকায় ৪৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে নিহতদের মধ্যে বাসের যাত্রী ৩৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, লরি ও ড্রাম ট্রাকের যাত্রী ৫১ জন, মাইক্রোবাস, কার ও জিপের যাত্রী ১১ জন, তিন চাকার যান—অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনার যাত্রী ৭৮ জন এবং নসিমন, ভটভটি ও মাহিন্দ্রার যাত্রী ২১ জন। রিকশা ও সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন পাঁচজন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৩টি ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ২১৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬২টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৭১টি শহরের সড়কে। কারণ হিসেবে ১২৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৯৫টি নিয়ন্ত্রণ হারানো, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া এবং ৭৮টি পেছন থেকে ধাক্কার ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে।
৭৪৯টি যানবাহনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে পণ্যবাহী যান ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, তিন চাকার যান ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, কার, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোর ও রাতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে—মোট দুর্ঘটনার ২০ দশমিক ০৭ শতাংশ এ সময় সংঘটিত হয়েছে।
অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালনাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ১২টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কমিশন পুনর্গঠন, নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণের মতো পদক্ষেপ রয়েছে।



