সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশপ্রেমিক নাগরিক, ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে তিনি ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানও উদ্বোধন করেছেন।
শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাইকে নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যাতে কাঙ্ক্ষিত সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে এরকম একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করি, যাতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হই।’
অনুষ্ঠানে আগের বক্তাদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ডক্টর আনিসুজ্জামানের ইনোভেশনবিষয়ক উপস্থাপনা ও বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের কর্মপন্থা মোটামুটিভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে।
তারেক রহমান বলেন, এসব কর্মপন্থা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে পারলে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের বর্তমান প্রয়োজনে উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার উদ্যোক্তা ও গবেষকদের সর্বাত্মক সহায়তায় সব সময় পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
পরে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি উদ্ভাবক ও বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী অভিযান উদ্বোধন
এদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।
১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে। ঢাকা কেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বক্তব্য দেন।
এ সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।




