ইরানের সাথে চলা সাত মাসের যুদ্ধ শেষের পথে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ইরান একটি চুক্তি করতে ইচ্ছুক এবং তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি বার্তা পাওয়া গেছে। তবে এই আশাবাদের মাঝেই সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের লড়াই: সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনে তীব্র বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং অপরদিকে হুথি বিদ্রোহীরা ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি শহর ও তেল স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে। সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে হুথিরা লোহিত সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
তেলের বাজারে প্রভাব: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে নেমে এলেও এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও মুদ্রাস্ফীতি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাল্ফ নেতাদের সাথে বৈঠক: এক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে আগামী মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকা সময়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থানরত সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইয়েমেন সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুদ্ধ বন্ধের আশার বাণী শোনা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কত দ্রুত থামবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনও সংশয় রয়ে গেছে।




