রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর কক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব চিরকুটে দাম্পত্য সম্পর্ক, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অন্য নারীর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়ে মরিয়মের ক্ষোভ ও হতাশার কথা লেখা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকে তাঁর লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চিরকুটগুলোর লেখক মরিয়মই কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
একটি চিরকুটে কাউকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করার কারণে প্রতারিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটিতে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ককে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বাসভঙ্গের কারণে হেরে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে। সেখানে নিজের ধ্বংসের শেষ প্রান্তেও হাসিমুখে থাকার এবং সেই হাসির কারণই একসময় অন্য পক্ষের জন্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে—এমন বক্তব্য রয়েছে।
অন্য একটি চিরকুটে গাজী নজরুল ইসলামকে অন্য নারীর স্বামী হিসেবে উল্লেখ করে মরিয়ম নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আরেক লেখায় ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয় এবং কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের—এমন বক্তব্য রয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে থাকতেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ন্যাম ভবনের বাসায় তাঁরা একসঙ্গে বসবাস করতেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন—এমন অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সিআইডির সদস্যরা ক্রাইম সিন পরীক্ষা করেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

রিমান্ডের প্রস্তুতি
শেরেবাংলা নগর থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর কারণ, চিরকুটগুলোর প্রকৃত লেখক এবং মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।





