মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
মতামত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল ও সুবিধাবাদের সংস্কৃতি: একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

পথিক চৌধুরী, ঢাকা থেকে ৩ সপ্তাহ আগে রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪৮৯২ বার পঠিত

 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলবদল, আদর্শিক চ্যুতি এবং ক্ষমতার মোহে দলবদল বা তথাকথিত “ডিগবাজী”র সংস্কৃতি নতুন নয়। স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নেতার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দেশের রাজনীতিকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। ইতিহাসের পাতা ও প্রবীণ রাজনীতিকদের পথ পরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সুবিধাবাদী রাজনীতির শেষ পরিণতি খুব একটা সুখকর হয়নি।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরের রাজনৈতিক বাঁক পরিবর্তন

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম বড় ধরনের ভাঙন ও নতুন ধারার জন্ম দেন সিরাজুল আলম খান, আ স ম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজসহ ছাত্রনেতারা। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে তাঁরা মূলধারা থেকে বেরিয়ে জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে এই দল ও এর গোপন সশস্ত্র উইং-এর কর্মকাণ্ড তৎকালীন সরকারকে নানা সংকটে ফেলে।

জাসদের অন্যতম নেতা শাহজাহান সিরাজ ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বনমন্ত্রী হন। একইভাবে মেজর জলিলও পরবর্তীতে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারায় যুক্ত হন। স্বাধীনতার পর আদর্শিক ও কৌশলগত এই বিভাজনগুলো দেশের রাজনীতিকে এক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন ও পুনর্বাসনের রাজনীতি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসে। খন্দকার মোশতাক আহমেদের সহযোগিতায় এবং পরবর্তী সময়ে জেনারেল জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায় অনেক রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তি নতুন দলে ভিড় জমান। এই সময়ে মশিউর রহমান যাদু মিয়াসহ ন্যাপের কিছু অংশ এবং জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির পুনর্বাসন শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে এরশাদ আমলেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, কাজী জাফর আহমদ এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীর মতো শীর্ষ রাজনীতিকরা ক্ষমতার টানে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদ অলংকৃত করেন। তাঁদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে আবার অন্য দলে ফিরে যান। এই ধারাবাহিক দলবদল প্রমাণ করে যে, নীতি বা আদর্শের চেয়ে অনেক সময় ক্ষমতার সমীকরণই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও কোরবান আলীর দলবদল

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন আশির দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এরশাদের পতন ঘটলে তিনি একসময় বিএনপিতে যোগ দেন এবং আমৃত্যু সেই দলেই ছিলেন।

অনুরূপভাবে, বঙ্গবন্ধুর আরেক ঘনিষ্ট সহচর কোরবান আলীও ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগ ছেড়ে এরশাদের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেন। এ ধরনের প্রবীণ নেতাদের বারবার দলবদল মাঠের রাজনীতিতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমনে অসন্তোষ

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও দলবদল এবং মেরুকরণের নানা চিত্র দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিবিদদের একটি অংশের আদর্শহীন ও সুবিধাবাদী অবস্থান সবসময়ই জনকল্যাণকে ব্যাহত করেছে। ক্ষমতার পালাবদলে অনেকেই নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বা বিশেষ সুবিধা পেতে দলের খোলস পাল্টে ফেলেন।

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলে, যারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে আদর্শের সাথে আপস করেন, শেষ পর্যন্ত তারা জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের রাজনীতির এই দীর্ঘস্থায়ী দেউলিয়াপনা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নীতিভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন