কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টের মালিকসহ ২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও রিসোর্ট পরিচালনায় অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। রোববার সকালে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া নেওয়াজ মোর্শেদের নামও উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি ১৯ জন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সকালেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকার পাটুয়ারটেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস। সকাল আটটার দিকে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রিসোর্টের তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়। আগুনের তীব্রতা ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়।
অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের দিক থেকে আসা তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনাটিতে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেতব্যবস্থা, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না। রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। রোববার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের মাধ্যমেই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে কোনটি কার, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), রাজধানীর খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁদের মধ্যে দুই নারী, এক শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছেন।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিচালনাগত ত্রুটি এবং অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কারও অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তে উঠে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।




