ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শহর। শনিবার লাখো মানুষের বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৫৩ পুলিশ সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্যারিস, মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। মার্সেইয়ে রাস্তায় অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বোর্দোতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী একটি ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করেন। লিওঁতেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। দিনের শুরুতে অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিক্ষোভ মিছিলের পেছনের অংশে কয়েক হাজার উগ্রপন্থী কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গায় জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। শুধু প্যারিসেই শনিবার ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁদের একজন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরের ২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী। বিস্ফোরণে তাঁর এক হাতের কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। রোববার ভোর পর্যন্ত মার্সেই অঞ্চলে সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর বা লুটপাটের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অতিরিক্ত করের চাপ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের নীতি ও পুলিশের কঠোর আচরণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ। তরুণ বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, দাবি পূরণে সরকারের সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে বিক্ষোভের আড়ালে লুটপাট ও ভাঙচুরের সমালোচনাও করেছেন অনেকে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ চলতি সপ্তাহে নির্দেশ দিয়েছেন, স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত কর্মসূচি ছাড়া অন্য বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না। গত সপ্তাহের সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে কয়েক শ মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভকে ঘিরে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ডানপন্থী ও বামপন্থী নেতারা সহিংসতার জন্য মাখোঁর সরকারের সমালোচনা করছেন। আগামী বসন্তে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে।
গত সপ্তাহের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে সরকারি হিসাবে জানানো হয়। ওই সময় সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে দুই হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো বলে জানিয়েছে দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।
ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও শনিবার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্পেনের বার্সেলোনায় ছাত্র বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর ১২০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হন। আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।




