লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বন্য প্রাণীর আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। প্রাণীটিকে খুঁজে বের করতে রাতভর টর্চ ও মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে তল্লাশি চালিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। ড্রোন ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে সোমবার বিকাল ৪ টা পর্যন্ত প্রাণীটির সন্ধান মেলেনি।
রোববার বিকেলে উপজেলার উত্তর আমঝোল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পিলার ৯০৫/১১ এস থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে ছাগল খুঁজতে গিয়ে বন্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন স্থানীয় বাসিন্দা শরিফা বেগম (৩০)। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আরও দুজন আহত হন।
ঘটনার পর থেকে বিজিবি ও বন বিভাগের সদস্যরা প্রাণীটিকে শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঢাকা থেকে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দলের চার সদস্যসহ লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা ও রংপুরের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিংও করা হয়েছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার সন্ধ্যার আগে ও পরে আমঝোল সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে চার থেকে পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। বিষয়টি আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের গোপালপুরে দায়িত্ব পালনরত বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারকে জানানো হয়েছিল।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আক্রমণের পর প্রাণীটি পাশের জঙ্গলে চলে যায়। লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগকে জানানো হয়।
লালমনিরহাট জেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে মৃত ছাগলের শরীরে আঘাতের ধরন ও গভীরতা পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রাণীটিকে চিতাবাঘ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হতে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান চলছে।
রাতভর তল্লাশি চালিয়েও প্রাণীটির সন্ধান না মেলায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে।




