সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি পত্রিকায় দেখেছেন, তবে সরকারের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “ইন্টারনেটের এই যুগে কথা বলতে চাইলে লন্ডনে যেতে হয় না, এখান থেকেই বলা যায়।”
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিনের ফোনালাপের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি তিনি পত্রিকায় দেখেছেন। কী তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে, তা তাদের জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সরকারের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই বলেও তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
বিরোধী দল মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিরোধীপক্ষকে জিজ্ঞেস করুন কেন তারা সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার চান। এখন তার বিরুদ্ধে যারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বা সমালোচনা করছেন, সেই অধিকার তাদের আছে।” গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় স্বৈরাচারের শেষদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময়ে এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তিনি বিধিবিধান ও সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। সংবিধান অনুসারে তিনি বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত (ইমিউনিটি আছে)। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর বাইরে যদি কেউ কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেই স্বাধীনতা তাঁদের আছে। তবে তা আমলে নেওয়ার মতো কিছু নয়।”
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “সেই সময় যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে সেটি সেই সময়ের বিষয়। আইন অনুযায়ী তা পরিচালিত হবে।” মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তিনি তা পাবেন। তাঁর সুরক্ষার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-সহ অন্যান্য সুবিধা পরবর্তী ছয় মাসের জন্য বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তাস সুবিধাও তিনি পাবেন।




