সংশ্লিষ্টদের মতে, বিরোধী পক্ষ তথা আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের কৌশল ও আকস্মিক তৎপরতাকে সরকার মারাত্মক ভয়ের চোখে দেখছে। ফলে পুলিশকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাহিনীর নিজেদের সুরক্ষাকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তিরই সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
ঢাকা: সম্ভাব্য রাজপথের কর্মসূচি, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতা ঘিরে সরকার এবং শীর্ষ পুলিশ প্রশাসনে তৈরি হয়েছে গভীর উৎকণ্ঠা। ক্ষমতাচ্যুত দলটির সম্ভাব্য পাল্টা ধাক্কা ও পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণের ভয়ে হঠাৎ করেই রাজধানীসহ সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। উগ্রবাদী কিংবা দুষ্কৃতকারীদের আড়ালে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা পুলিশের যানবাহনে হামলা চালাতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের পর কার্যত সরকার ব্যাকফুটে গিয়ে এই কঠোর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি ইউনিটে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এই নির্দেশের কথা জানা গেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইদানীং আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তৎপরতা এবং গোপন সাংগঠনিক কাযক্রমে সরকার কূল পাচ্ছে না। যার ফলে প্রতি মুহূর্তেই এখন অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে সংশ্লিষ্যক্রমে
যানবাহন লক্ষ্য করে হামলার আতঙ্ক: পুলিশ সদরদপ্তরের জরুরি নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ যেকোনো যানবাহনের ওপর হঠাৎ হামলা কিংবা আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এই আশঙ্কায় প্রতিটি পুলিশি গাড়ি ও সদস্যদের সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র শিথিলতা বা অবহেলাকে এখন মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।
ডিউটির মাঝেও গাড়ি ফাঁকা রাখার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা: আওয়ামী লীগ বা বিরোধীদের হঠাৎ অতর্কিত হামলার ভয় কতটা জাঁকিয়ে বসেছে, তা বোঝা যায় অর্পিত নতুন নিয়মকানুনে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
সাময়িক বিরতিও ঝুঁকিপূর্ণ: ডিউটিরত অবস্থায় কোনো যানবাহন সামান্য সময়ের জন্য থামাতে হলেও তা কেবল নিরাপদ স্থানেই পার্ক করা যাবে।
আনঅ্যাটেন্ডেড নিষিদ্ধ: চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ব্যতিরেকে পুলিশের কোনো গাড়ি কোনো অবস্থাতেই কোথাও ফেলে রাখা যাবে না (আনঅ্যাটেন্ডেড রাখা যাবে না)।
কড়া টহল ও পাহারা: ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস বা অফিস কম্পাউন্ডে পার্ক করা যানবাহনের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা অতিরিক্ত টহল ও বিশেষ সিসিটিভি/মানব নজরদারি জোরদার করতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: প্রশাসনের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিরোধী পক্ষ তথা আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের কৌশল ও আকস্মিক তৎপরতাকে সরকার মারাত্মক ভয়ের চোখে দেখছে। ফলে পুলিশকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাহিনীর নিজেদের সুরক্ষাকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তিরই সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।



