মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
জালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুলহাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত : আইএসপিআরইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগঅস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মৌসুমের শুরুতেই থাবা বসিয়েছে অস্বাভাবিক তীব্র গরমহরমুজে তেলবাহী সৌদি সুপারট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুই নাবিক নিহত নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ সাড়ে ৪ হাজারজালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুলহাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত : আইএসপিআরইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগঅস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মৌসুমের শুরুতেই থাবা বসিয়েছে অস্বাভাবিক তীব্র গরমহরমুজে তেলবাহী সৌদি সুপারট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুই নাবিক নিহত নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ সাড়ে ৪ হাজার
ফোকাস

জামায়াত এর ধর্মভিত্তিক ও স্বাধীনতাবিরোধী এজেন্ডা: সোচ্চার সচেতন মহল

বিশেষ প্রতিনিধি ১ মাস আগে রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬ ২২৬২ বার পঠিত

প্রশ্ন উঠছে, জামায়াত কি অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে প্রকৃত অর্থে কোনো পরিবর্তন এনেছে, নাকি কৌশলগতভাবে নতুন রাজনৈতিক ভাষা ও জোটের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটির তৎকালীন অবস্থান, মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়, পরবর্তী সময়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, জঙ্গি তৎপরতা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক  সমীকরণ। নতুন প্রজন্মের রাজনীতির প্রতিনিধিত্বের দাবি করা একটি দলের সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। সমালোচকদের প্রশ্ন—নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে পুরোনো আদর্শের এই সমীকরণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনসিপি-জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসাবে রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধীদল থেকে প্রার্থী দেওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির একাকার হয়ে যাওয়াটা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।

অতীতের ভূমিকা এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে  

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে ইতিহাস ও বিচারিক নথিতে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়ে দলটির তৎকালীন নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান মূল্যায়ন করা কঠিন। একই সঙ্গে তাদের বক্তব্য, বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং অতীতের রাজনৈতিক দায়—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, জামায়াত কি অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে প্রকৃত অর্থে কোনো পরিবর্তন এনেছে, নাকি কৌশলগতভাবে নতুন রাজনৈতিক ভাষা ও জোটের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে?

নারী অধিকার সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ ও নারী নেতৃত্বের বিষয়ে তাদের অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান, গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং নারীর সমঅধিকারের প্রশ্নে দলটির নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি বড় অংশ নারী নেতৃত্ব, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক সমতার প্রশ্নকে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।

গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক

 গত ২০ জুলাই রাতে সাবেক জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হলে শ্যামনগরসহ সারা দেশে বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২২ জুলাই জামায়াত তাকে দল থেকে বহিস্কার করলেও তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে অপসারণের বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আইনি ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। ফলে নৈতিকভাবে চরম দেউলিয়া একজন ব্যক্তি এখনো সংসদ সদস্য পদে বহাল রয়েছেন। অধিকন্তু, ঘটনার পর এমপি ও তার ক্যাডাররা ওই নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে চালিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা চালিয়েছেন, তাকে আলেম-ওলামা ও সমাজচিন্তকেরা চরম ভণ্ডামি বলে অভিহিত করেছেন। বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী আক্ষেপ করে বলেন, “ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার। এদের মুখে ইসলাম আছে, কিন্তু আচরণে চরম মুনাফেকী।”

একই সঙ্গে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলীয় এলাকার অবৈধ বালুমহাল ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ সিন্ডিকেটের খবর সামনে এসেছে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, গাজী নজরুলের ছেলে ও শিবির ক্যাডাররা এলাকায় চাঁদাবাজি ও সম্পদ দখলের একছত্র রাজত্ব বানিয়েছিল। এটি প্রমাণ করে, ধর্মের নামে রাজনীতি করলেও জামায়াত-শিবিরের মূল লক্ষ্যই হলো অর্থ ও ক্ষমতার অবৈধ নিয়ন্ত্রণ।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও স্বাধীনতাবিরোধী অপকৌশল

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল একজন এমপির নৈতিক স্খলনই নয়, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির (সাবেক ছাত্রসংঘ) সূচনা থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী গঠন করে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়েও উঠে এসেছে কীভাবে তারা ইসলাম ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল।

স্বাধীনতার পর আশির ও নব্বইয়ের দশকে ক্যাম্পাসগুলোতে রগকাটা ও অস্ত্রের রাজনীতির মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল শিবির। আর বর্তমানে সংসদে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশজুড়ে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে তারা।

জামায়াত-এনসিপি সমীকরণ: নতুন রাজনীতির সামনে পুরোনো প্রশ্ন

এনসিপিকে ঘিরে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশার একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক যোগাযোগ বা সমীকরণ নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। আশঙ্কা, নতুন রাজনৈতিক শক্তি যদি পুরোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর যুক্তি হতে পারে—গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বা নির্বাচনী সমঝোতা নিজেই কোনো দলের আদর্শিক আত্মসমর্পণের প্রমাণ নয়।

সুতরাং প্রকৃত প্রশ্ন হলো—এই সমীকরণের ভিত্তি কী? এটি কি সাময়িক নির্বাচনী কৌশল, নাকি দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক ও রাজনৈতিক সমঝোতা?