অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক ও নগরায়ণের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল (ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন) এয়ারপোর্টের যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা। মেগা প্রকল্পটির অগ্রগতি ও ব্র্যাডফিল্ড সিটি পরিদর্শন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর-জেনারেল।
ভিআইপি পরিদর্শন ও আর্কিটেকচারাল নকশা
পরিদর্শনকালে গভর্নর-জেনারেল টার্মিনালের আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখেন, যা স্থানীয় ঐতিহ্য এবং ‘কান্ট্রি’র প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক আলোর সুষম ব্যবহার, স্থানীয় উপাদান এবং ঐতিহ্যবাহী বেলেপাথরের দেয়াল দিয়ে সাজানো আগমন ও বহির্গমন হলগুলো আধুনিকতার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির এক অপূর্ব প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
পরিদর্শন শেষে গভর্নর-জেনারেল প্রকল্পের প্রকৌশলী, গবেষক ও নির্মাণকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি এয়ারপোর্টের চেয়ারম্যান পল ও ’সুলিভান, সিইও সাইমন হিকি এবং ব্র্যাডফিল্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সিইও কেন মরিসনের অবদানের বিশেষ প্রশংসা করেন।
উদ্বোধনী ফ্লাইট ও এয়ারলাইনস শিডিউল
আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টায় জেটস্টারের এয়ারবাস এ৩২০ ওয়েস্টার্ন সিডনি থেকে গোল্ড কোস্টের উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে, যা হবে বিমানবন্দরটির প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। প্রাথমিকভাবে জেটস্টার মেলবোর্ন, গোল্ড কোস্ট ও ব্রিসবেনে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর থেকে এয়ার নিউজিল্যান্ড (অকল্যান্ড) এবং ২৩ নভেম্বর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস (সিঙ্গাপুর) তাদের ফ্লাইট চালু করবে।
বিমানবন্দর ও ব্র্যাডফিল্ড সিটির মূল তথ্যাবলি
অবকাঠামো নির্মাণে ১২,৮০০-এর বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে (যার অর্ধেটাই স্থানীয়)। স্থানীয় ৩৬০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি মূল্যের কাজ। বছরে ১ কোটি যাত্রী চলাচলের প্রাথমিক সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ ও কার্গো সেবা দেবে কোনো নৈশকালীন নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই।
২৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কার্গো কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বছরে সর্বোচ্চ ১৮ লাখ টন এয়ার কার্গো পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সিডনির ৬৫% মানুষের জন্য বিমানবন্দরটি ৪৫ মিনিটের পৌঁছানোর দূরত্বে অবস্থিত। ক্যানবেরার পর দেশের প্রথম পরিকল্পিত এবং এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম নতুন বড় শহর।



