মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
জালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুলহাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত : আইএসপিআরইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগঅস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মৌসুমের শুরুতেই থাবা বসিয়েছে অস্বাভাবিক তীব্র গরমহরমুজে তেলবাহী সৌদি সুপারট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুই নাবিক নিহত নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ সাড়ে ৪ হাজারজালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুলহাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত : আইএসপিআরইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগঅস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মৌসুমের শুরুতেই থাবা বসিয়েছে অস্বাভাবিক তীব্র গরমহরমুজে তেলবাহী সৌদি সুপারট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুই নাবিক নিহত নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ সাড়ে ৪ হাজার
আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচারের আগে অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার অবসান চায় এইচআরডব্লিউ

ডেস্ক রিপোর্ট ২ সপ্তাহ আগে মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১৬৫৩ বার পঠিত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদসহ অন্যদের বিচারের আগে দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখার অবসানে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি সোমবার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ হাজারো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাদের মধ্যে শত শত মানুষ কোনো অপরাধে অভিযুক্ত না হয়েই এখনো কারাগারে বন্দী আছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও হাসিনা সরকারের কিছু কর্মকর্তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, তবে অনেককেই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের অনেকে প্রবীণ এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। তাদের জামিন, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছেন।

এইচআরডব্লিউর তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ নেতা কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছিল না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলাইন পিয়ারসন বলেন, এক সরকারের পর আরেক সরকারের আমলে বিরোধীপক্ষের শত শত সদস্যকে কোনো প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিন ইচ্ছেমতো আটক রাখার অবসান করা।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশ সরকার নতুন যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি বর্তমান রূপে পাস হলে তা ইচ্ছেমাফিক গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্তে গঠিত নতুন কমিশনের পথ আটকে দেবে। অভিযোগ ছাড়াই যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, হাসিনার প্রশাসনকে সমর্থন করা অন্যান্য সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করা অ্যাকটিভিস্ট, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা রয়েছেন। আটক অন্যদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, গুমসহ গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।

যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উত্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায় প্রসিকিউটররা বারবার জামিন নাকচের আবেদন করেছেন উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ বলেছে, নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো ধারাবাহিকভাবে জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। আর হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা করে সেই আদেশ কার্যকর করার পথ আটকে দিচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে ৮২ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিষয়টি এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী তিন মাসে দুর্নীতিসহ চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নিম্ন আদালত প্রতিটি মামলায় খায়রুল হকের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন, যদিও তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং কারাগারে থাকাকালে একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছেন। হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করলেও সর্বশেষ মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার এক দিন আগে, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পুলিশ তাকে আরও দুটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। ফলে তাঁর মুক্তি আটকে গিয়েছিল।

নতুন দুটি মামলাতেও নিম্ন আদালত খায়রুল হকের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন। পরে ১২ মে হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। কিন্তু খায়রুল হক মুক্তি পাওয়ার আগেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দেয়। আগের যে হত্যা মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, পুলিশের নতুন অভিযোগে ঠিক একই সময়ে তিনি আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন বলে দেখানো হয়। অথচ দুটি ঘটনাস্থলের মধ্যে দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের বেশি।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সঙ্গে আরও একবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। হাইকোর্ট তাকে জামিন দেওয়ার পর পুলিশ তৃতীয়বারের মতো তাঁর বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করে। এভাবে কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের দেওয়া নতুন জামিন আদেশও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। ওই আদেশে পুলিশকে বলা হয়েছিল, এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা যাবে না।

আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে ১৯ আগস্ট খায়রুল হক মুক্তি পান। এ পুরো সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়নি।