সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা আমানতের টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন। প্রথম দিনে যেসব গ্রাহক টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন, সোমবার থেকে তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় টাকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে টাকা স্থানান্তরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা ৭৬১টি।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানত ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমানত ফেরত পেতে মোট ৭৪ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে তাঁরা ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়েছেন। রোববার ছিল আবেদন করার শেষ দিন।
রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিলের কয়েকটি শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দিনের আবেদনকারীদের অর্থ পরিশোধের জন্য শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। সকাল থেকে অনেক গ্রাহক টাকা তুলেছেন। যারা আবেদন করেছেন, তাদের সঙ্গে শাখা থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ভাঙ্গা শাখায় ৩০ লাখ টাকা জমা করেছিলেন সাবেক ব্যাংকার আবদুস সালাম। প্রথম দিনে তিনি ১৪ লাখ টাকা তোলার আবেদন করেন এবং সোমবার সকালে ওই টাকা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দুই বছর ধরে টাকার জন্য ঘুরতে হয়েছে, এবার অন্তত অর্ধেক টাকা পেয়েছেন।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তোপখানা শাখায় সকাল থেকে ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহককে টাকা দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা টাকা পাচ্ছেন। নতুন করে জমা হওয়া মুনাফার অর্থও গ্রাহকেরা তুলতে পারছেন।
ইউনিয়ন ব্যাংকের উত্তরা শাখায় প্রথম দিনে আটজন টাকা তোলার আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে চারজন টাকা তুলেছেন এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মুনাফার অর্থ জমা হয়েছে এমন গ্রাহকেরাও তা তুলতে পারছেন বলে শাখা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে কিছু গ্রাহক এখনো ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, আমানতের মুনাফা কাটার বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও অনেক শাখায় এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পৌঁছেনি। কিছু গ্রাহকের নতুন হিসাব খুলে শুধু মূল টাকা জমা করা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল হবে কি না, তা নিয়েও স্পষ্টতা নেই।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।



