তেলাপোকার দুধ, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নাক ঝাড়ার বিজ্ঞান—এমন সব অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে গবেষণার জন্য এবার ইগ নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। হাস্যরসের আবহে বিজ্ঞানের অপ্রচলিত ও কৌতূহলোদ্দীপক গবেষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই আয়োজনে এবার ১০টি গবেষক দলকে সম্মানিত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখ কনভেনশন সেন্টারে এবারের ইগ নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের পর এবারই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো।
ভ্রমণ ও ভিসা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এবারের আয়োজন ইউরোপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে জুরিখসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালাক্রমে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের অনুষ্ঠান হবে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প শহরে।
ইগ নোবেল পুরস্কারের অন্যতম আলোচিত গবেষণার মধ্যে ছিল তেলাপোকার দুধ নিয়ে কাজ। পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য ও মাটিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র প্রাণীদের ভূমিকা বোঝার জন্য অভিনব এক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। গবেষকরা ২৫টিরও বেশি দেশে মাটির নিচে এক হাজার জোড়া অন্তর্বাস পুঁতে রেখে সেগুলো কীভাবে মাটির জীব ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে পচে যায়, তা পর্যবেক্ষণ করেন।
এবারের পুরস্কারে চুম্বনের বিবর্তন নিয়েও গবেষণা করা হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাতিল্ডা ব্রিন্ডল ও স্টুয়ার্ট ওয়েস্ট এবং ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ক্যাথরিন এফ. টালবট চুম্বনের বিবর্তনীয় ইতিহাস পুনর্গঠন করেন।
এ ছাড়া প্রয়াত চিকিৎসক টোকুজি উননো নাক ঝাড়ার বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত সাধারণ একটি কাজকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করাই ছিল এই গবেষণার বিশেষত্ব।
ইগ নোবেল পুরস্কারের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ‘অ্যানালস অব ইমপ্রোবেবল রিসার্চ’ নামের একটি ডিজিটাল ম্যাগাজিন। প্রচলিত নোবেল পুরস্কারের আদলে হলেও এর উদ্দেশ্য হলো এমন গবেষণাকে সামনে আনা, যা প্রথমে মানুষকে হাসায়, পরে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
অনুষ্ঠানের ঐতিহ্য অনুযায়ী, মঞ্চে কাগজের তৈরি বিমান ছুড়ে এবারের আয়োজনের সূচনা করেন দর্শকেরা। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ নকশার ট্রফি, যা দেখতে অনেকটা মাশরুম ও মানুষের পায়ের সংমিশ্রণের মতো।
এর আগে ইগ নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠানটি ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।



