মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
জালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুলহাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত : আইএসপিআরইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগঅস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মৌসুমের শুরুতেই থাবা বসিয়েছে অস্বাভাবিক তীব্র গরমহরমুজে তেলবাহী সৌদি সুপারট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুই নাবিক নিহত নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ সাড়ে ৪ হাজারজালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুলহাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত : আইএসপিআরইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগঅস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মৌসুমের শুরুতেই থাবা বসিয়েছে অস্বাভাবিক তীব্র গরমহরমুজে তেলবাহী সৌদি সুপারট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুই নাবিক নিহত নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ সাড়ে ৪ হাজার
ফোকাস

ভূ-রাজনৈতিক গোলকধাঁধায় বাংলাদেশ : ব্রিকস, জাতিসংঘ ও মক্কা চুক্তির বহুমুখী সংকট

ঝর্ণা মনি ৪ দিন আগে সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮৮৫ বার পঠিত
meccapact

স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক ‘অগ্নিপরীক্ষা’র মুখোমুখি বাংলাদেশ।

একদিকে ভারত-চীন-রাশিয়া, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব আবার অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোতে ঢাকার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা। ফলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির সামনে এখন কঠিন ভারসাম্যের প্রশ্ন।

একই সময়ে তিন ভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সামনে তিনটি দরজা। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে চীন-রাশিয়াসহ উদীয়মান শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ। অন্যদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ—যেখানে বহুপাক্ষিক কূটনীতির সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ। আবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো—যেখানে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশ নেওয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক কৌতূহল ও উদ্বেগ। এই তিনের সমন্বয়ে কূটনৈতিক পরীক্ষায় দাঁড়ানো বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন—সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা কতটুকু ধরে রাখতে পারবে ঢাকা?

ব্রিকস: অর্থনীতির দরজা, ভূরাজনীতির ছায়া

আগামী সপ্তাহে (১২–১৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে বসছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ অংশ নিলে ভারতের পাশাপাশি চীন, রাশিয়াসহ দক্ষিণ বলয়ের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে। কারণ ব্রিকসের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। আর বিশ্ব রাজনীতিতে পশ্চিমা শক্তির বাইরে উদীয়মান শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্র হিসেবেও এর গুরুত্ব বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিকস বর্তমানে কেবল একটি অর্থনৈতিক জোট নয়, এটি ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশ এই মঞ্চে অনুপস্থিত থাকলে পশ্চিমা দেশগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ) সামনে নিজের দরকষাকষির শক্তি হারিয়ে ফেলবে। পশ্চিমারা তখন বুঝবে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প পথ সীমিত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে। সেইসঙ্গে জোটের পরিধি বিস্তারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী পরাশক্তি চীনের সঙ্গেও এক ধরনের কৌশলগত দূরত্ব তৈরি হবে।

শুধু তাই নয়, বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে ছিটকে পড়বে বাংলাদেশ। ব্রিকস দেশগুলোর নিজস্ব পেমেন্ট মেকানিজম (ব্রিকস পে) এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের (ডি-ডলারাইজেশন) চলমান প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকলে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ বিকল্প বাণিজ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে বড় ঋণ পাওয়ার পথও মসৃণ থাকবে না।

মক্কা চুক্তি: সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক প্রশ্ন

গত ৭ আগস্ট যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। চুক্তির মূল কাঠামো অনুযায়ী, কোনো এক সদস্যের ওপর আক্রমণকে অন্য সদস্যদের ওপর আক্রমণ হিসেবেও বিবেচনা করার নীতি রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় যুক্ত হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। কিন্তু সম্ভাব্য যোগদানই ইতোমধ্যে আঞ্চলিক কূটনীতিতে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ পাকিস্তান এই কাঠামোর অংশ। আর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে দিল্লির কাছে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, বাংলাদেশের বর্তমান কূটনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম ভারত। এছাড়া ভৌগোলিক বাস্তবতা, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই ভারত বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য অংশীদার। ব্রিকসের আয়োজক ভারত।

আবার সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা কাঠামোর অন্যতম সদস্য পাকিস্তান। ফলে একই সময়ে দুই বিপরীত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা দিল্লির দৃষ্টিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।

‘মক্কা চুক্তি’কে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন নিরাপত্তা ও কৌশলগত সংকট হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। তাঁদের মতে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষাচুক্তি বা ‘মক্কা চুক্তি’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা ও সংকটের জন্ম দিয়েছে। ন্যাটোর আদলে গঠিত এই সামরিক বলয়ে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কম্পন শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো প্রকার সামরিক বা লজিস্টিক প্রতিরক্ষা বলয়ে প্রবেশ করে, তবে প্রতিবেশী ভারত এটিকে তার পূর্ব সীমান্তে একটি বড় ধরনের কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখবে, যা ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

অন্যদিকে এই চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে (যেমন ইরান বা হুতি সংকট) কোনো যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে বাংলাদেশকে সেখানে সেনা বা সামরিক লজিস্টিক পাঠাতে হতে পারে। এটি বাংলাদেশের প্রথাগত নিরপেক্ষতা ও শান্তিরক্ষা নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

জাতিসংঘে বড় সুযোগ

তিন মঞ্চের মধ্যে জাতিসংঘই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক জায়গা। এখানে কোনো সামরিক জোটের অংশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব, শান্তি, উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিকতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ একই সঙ্গে সব শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে।

ঢাকা চাইলে নিউইয়র্কে একইসঙ্গে ওয়াশিংটন, দিল্লি, বেইজিং, রিয়াদ, আঙ্কারা এবং গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। তবে বাংলাদেশ যদি ব্রিকস বা মক্কা চুক্তির মতো পশ্চিমা-বিরোধী হিসেবে পরিচিত মেরুর দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জিএসপি প্লাস সুবিধা এবং বাণিজ্য নীতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিতে পারে।

প্রশ্ন উঠেছে—ঢাকা কি একইসঙ্গে দিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদ, আঙ্কারা, ইসলামাবাদ ও জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে?

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *