মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে এক টন ওজনের আরও ৪০,০০০ বোমা দিচ্ছেন ট্রাম্প !

ডেস্ক রিপোর্ট ১ মাস আগে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪০৫৯ বার পঠিত

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা) ভারী বোমা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজে থাকবে ৪০ হাজার এক টন ওজনের বোমা, যা গাজা ও লেবাননে ব্যবহারের কারণে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার পাউন্ড ওজনের MK-84 ও BLU-117 বোমা ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার এবং আরও ২০ হাজার I-2000 পেনিট্রেটর ওয়ারহেড দেওয়ার কথা রয়েছে। এসব ওয়ারহেড মাটি, পাথর বা কংক্রিটের মতো শক্ত স্তর ভেদ করে ভেতরে গিয়ে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য তৈরি।

২ হাজার পাউন্ডের একটি বোমার বিস্ফোরণ ১ হাজার ফুটেরও বেশি দূরত্বে প্রাণঘাতী হতে পারে এবং এতে প্রায় ৫০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব ভারী বোমা ব্যবহারের কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও কয়েকটি দেশও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সমালোচনা করেছে।

প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসের দুটি কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। সাধারণত এসব অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে প্রয়োজনে সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ রয়েছে।

আগেও ভারী বোমা সরবরাহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

এদিকে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ডের বোমার একটি চালান স্থগিত করেছিল। ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় এসব অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা থেকেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পর গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প ওই চালান সরবরাহের অনুমতি দেন। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। ওই প্যাকেজে ৩৫ হাজার MK-84 ও BLU-117 এক টন ওজনের বোমাও ছিল।

কংগ্রেসের নেতারা প্রস্তাবিত নতুন অস্ত্র চুক্তির বিরোধিতা জানাতে পারেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে কংগ্রেসের অনানুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রাখেন। এমনটি হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটকে যৌথভাবে চুক্তি ঠেকাতে প্রস্তাব পাস করতে হবে। প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করতে হলে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

এর আগে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ দ্রুত করতে বাইডেন প্রশাসনও মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে কংগ্রেসের অনুমোদন পাশ কাটিয়েছিল। ওই সময়ের দুটি চালানের একটিতে ১৩ হাজার রাউন্ড ট্যাংক গোলাবারুদ এবং অন্যটিতে কামানের গোলা ছিল।

গাজায় বেসামরিক হতাহত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও বিতর্ক

প্রস্তাবিত নতুন অস্ত্র প্যাকেজটি এমন সময়ে আসছে, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক বাড়ছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য গাজায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঐতিহ্যগত সমর্থকদের মধ্যেও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষের প্রকাশ ঘটেছে। সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র সরবরাহ ইসরায়েলকে উৎসাহিত করতে পারে এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, গাজায় হামাস ও লেবাননে হিজবুল্লাহ বেসামরিক মানুষের মধ্যে অবস্থান করে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাংকার ও সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে। এসব স্থাপনায় হামলা চালাতে ভারী অস্ত্র প্রয়োজন হয় বলে ইসরায়েল দাবি করে। তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, অপেক্ষাকৃত কম ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ ইসরায়েল যথেষ্ট বিবেচনা করছে কি না।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ইসরায়েল মূলত মার্কিন অস্ত্র কেনার অর্থায়নে ব্যবহার করে। আরও ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয় যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনকে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন নীতির ধারাবাহিক সমর্থনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মতবিরোধও হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করা পর্যন্ত প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না। সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন