ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে শনিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক আবু জাফর সূর্যসহ প্রায় ৩০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আবু জাফর সূর্যসহ নিজেই ফেইসবুকে হ্যান্ডকাফ পরা একটি ছবি দিয়ে বলেছেন, “আজ জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় আমাকে সহ অনেককে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, আমি জানি না।
অভিযান শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেছেন, সংখ্যাটা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি হবে। শনিবার দুপুর ৩টায় দলটির কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরপর একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়েছেন তথ্যে এমন অভিযান চালানোর কথা বলে পুলিশ। উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, “আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন। “তো এ সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে সহায়তা করেছে।”
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “তারা আসলে কী উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী কী তথ্য আছে এবং কী কী কর্ম তারা এখানে করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে। “ইতোমধ্যে তারা এখানে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে মর্মে আমাদের কাছে কিছু তথ্য আছে।”
জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা করার সময় দুপুর আড়াইটায় তাদের ওপর ‘হামলা’ হয়েছে। প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে বলতে দেখা যায়, “এখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে।”এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “এটা মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাসদের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন অভিযোগ করে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন। পরে সেখানে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। বিকাল ৪টার দিকে জাসদ কার্যালয় থেকে একে একে অনেককে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ বলছে, জাসদের কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল এবং বহিরাগত অনেকে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিককে হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযান চলমান রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে জাসদ দাবি করেছে, তারা প্রতিনিধি সভায় মাইক ব্যবহার ও সভার নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি বরাবর গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন। আবেদনগুলো রিসিভও করা হয়। এরপরও আজ শানিবার তাদের কার্যালয়ে হামলা ও অভিযান চালানো হয়। পরে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমন আবেদনের বিষয়ে আমার জানা নেই।’
উল্লেখ, ইউনূসের শাসনকালে স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নির্যাতন চালানো হয় । অনেকে দীর্ঘদিন জেলে আছেন। যার ধারাবাহিকতা আজও চলছে । বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন অফিস আজও তালাবদ্ধ । সারাদেশে সহস্রাধিক সাংবাদিকের নামে দায়ের করা হয়েছে হত্যা ও একাধিক হয়রানিমূলক মামলা । সারাদেশে সহস্রাধিক সাংবাদিক শুধুমাত্র আদর্শিক কারণে চাকরিচ্যুত ।




