স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সময় চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অবস্থান করা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসানের স্ত্রী সন্তান প্রসবের জন্য পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরিবারের দাবি, সোমবার সকালে সন্তান জন্মের পর নবজাতককে দেখার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর স্ত্রীর ওষুধ আনতে হাসপাতালের নিচে যান হাসান। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধরে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ওই সময় ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো লোকজন ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন হাসানকে ধরে নিয়ে যান। হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি একজনকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন।
এদিকে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তিকে হাসানকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের পেছনে আরও কয়েকজন ছিলেন।
অন্যদিকে, হাসানকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা ডিবি পুলিশের সদস্য কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকেই হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে, হাটহাজারী থানার সন্ত্রাসবিরোধী তিনটি মামলায় হাসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মো. হাসান হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও তার বিরুদ্ধে মামলার তথ্য রয়েছে।
স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে থাকা অবস্থায় হাসানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।




