সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। যেখানে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার কথা ছিল, ঠিক উল্টো পথে হেঁটে রাষ্ট্র তাঁর আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নামে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাল।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, স্বাধীন মত প্রকাশ এবং ভিন্নমতের সমালোচনা সহ্য করার সংস্কৃতিতে রাষ্ট্র এখনো পিছিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার ঠিক পরেই বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কর্তৃক জরুরি ভিত্তিতে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর ব্যাংকের সব তথ্য চেয়ে পাঠানো জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। যেখানে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার কথা ছিল, ঠিক উল্টো পথে হেঁটে রাষ্ট্র তাঁর আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নামে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাল।
মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে গোএমএল মেসেজ বোর্ডের মাধ্যমে কেওয়াইসি, হিসাব বিবরণী এবং টিডিএস সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার এই নজির বিরল। সাধারণ ব্যাংক লেনদেনের তদন্ত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই ধরনের তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
দেশের সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনরা মনে করছেন, সরকারের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কোণঠাসা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
যখন অপরাধীদের ধরার চেয়ে মত প্রকাশকারীকে ঘায়েল করার তোড়জোড় বেশি দেখা যায়, তখন আইনের শাসন হুমকির মুখে পড়ে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দেখা যাচ্ছে, সরকারের নীতিনির্ধারক বা ব্যবস্থার সমালোচনা করলেই ব্যাংক হিসাব তলব বা নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
দুর্নীতি বা অর্থ পাচারের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর তদন্ত ঝুলে থাকে, অথচ জনপ্রিয় কোনো ক্রিয়েটর সরকারের সমালোচনামূলক ভিডিও বানালেই বিএফআইইউর মতো সংবেদনশীল সংস্থাগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নড়েচড়ে বসে। এই দ্বিমুখী নীতি আইনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করার পেছনে অর্থনৈতিক তদন্ত কম এবং অন্যান্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্য বেশি কাজ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর ফলে মিডিয়া ও সৃজনশীল অঙ্গনে একধরনের সেল্ফ-সেন্সরশিপ বা আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরি হতে পারে।
একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রে ভিন্নমত বা সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করার এই প্রবণতা কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ নয়। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের বিচার না করে উল্টো তাঁর ওপর রাষ্ট্রীয় চাপ প্রয়োগের এই ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সৃজনশীলতার অন্তরায়। সরকারের উচিত প্রতিহিংসামূলক আচরণ পরিহার করে সব নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) ও হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) দিতে বলা হয়েছে।
এদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে পাঠানো ওই ই-মেইল বার্তায় সালমান মোহাম্মাদ মুক্তাদিরের নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই বার্তা উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ আরও যাদের ব্যাপক পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা আছে, তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে তিনি আশা করেন।




