জেনেভা, সুইজারল্যান্ডঃ জেনেভা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক শৃঙ্খলা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
“বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট: শিক্ষার অধিকার, নির্বিচার আটক এবং সাজানো ট্রাইব্যুনাল রায়” শীর্ষক এই সেমিনারে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সাবেক রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক গবেষকরা অংশ নেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এক গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি দেশে শান্তি বা সমৃদ্ধি বয়ে আনেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জনগণের অবাধ ও সচেতন ইচ্ছার মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে হবে, কোনো ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নির্বিচারে আটক এবং মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করেছে।
তিনি বিচার ও ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কঠোর সমালোচনা করেন। বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই অর্থবহ বা প্রতিনিধিত্বমূলক হতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দেশটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার এবং নির্বিচার আটক ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অবসান ঘটাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্সের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মো. হাবিব ই মিল্লাত তার বক্তব্যে বলেন যে, বাংলাদেশে আইনের শাসন, বিচারিক সুরক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে লাখ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষাঙ্গনের বাইরে রয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ এবং কারাবন্দী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মানবেতর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য পাওলো কাসাকা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক সংকট বা সাংবিধানিক বিরোধ হিসেবে দেখা উচিত নয়; এটি একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংকট। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, সাংবাদিকদের ওপর চাপ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বাদ দেওয়ার প্রবণতা কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনব্যবস্থার লক্ষণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।




