—ছোট ছোট সম্পর্কই পারে মানসিক সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে
‘অক্টোবর মানসিক স্বাস্থ্য মাস’ উপলক্ষে সিডনির কোগারাহ স্টোরহাউসে প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণামূলক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) পালিত হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা দিবস। কমিউনিটির মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টের উদ্যোগে ট্রান্সকালচারাল মেন্টাল হেলথ সেন্টার, দোভাষী সহায়তা সেবা, অ্যাডভান্স ডাইভারসিটি সার্ভিসেস এবং কোগারাহ স্টোরহাউসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল — ছোট ছোট সংযোগ ও আন্তরিক সম্পর্কও মানুষের জীবনে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিজের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর কমিউনিটির অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে কীভাবে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা যায়, তা ছিল এ প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা।
এই ভাবনাকে সামনে রেখে একই দিনে পরিবারের সদস্যদের জন্য আনন্দময় কার্যক্রম এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা ও সচেতনতামূলক সেশনের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা একদিকে যেমন কমিউনিটির অন্যদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর সুযোগ পান, অন্যদিকে নিজের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মানসিকভাবে ভালো থাকার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কেও জানার সুযোগ লাভ করেন।
অনুষ্ঠানের ফ্যামিলি ফান ডে পর্বে জুয়েলারি মেরামতের স্টল এবং টবে লাগানো গাছের স্টল উপস্থিতিদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে। পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। পাশাপাশি, শিশুদের দেখাশোনার জন্য চাইল্ড-মাইন্ডিং সেবার ব্যবস্থা থাকায় অভিভাবকেরা স্বচ্ছন্দে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেশনগুলোতে অংশ নিতে পেরেছেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একজন ব্যক্তির লিভড এক্সপেরিয়েন্স বা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক গল্প। তাঁর অভিজ্ঞতা উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আশা, সাহস ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সুস্থতার পথে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই পর্বটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এ ছাড়া, একজন প্রশিক্ষিত মাইন্ডফুলনেস ফ্যাসিলিটেটর প্রাণায়াম ও গ্রাউন্ডিং অনুশীলন পরিচালনা করেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সচেতন অনুশীলন এবং বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার এই কার্যক্রমে উপস্থিত ব্যক্তিরা আন্তরিকভাবে অংশ নেন। অনুশীলনটি মানসিক প্রশান্তি, আত্মসচেতনতা এবং নিজের অনুভূতির প্রতি মনোযোগী হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কমিউনিটির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত সুস্থতা নিশ্চিত করার প্রতি তাঁদের গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়।
আয়োজকদের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আবারও উঠে এসেছে—মানসিক সুস্থতা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে আন্তরিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট ছোট আন্তরিক সংযোগই মানুষের মধ্যে আস্থা, সহমর্মিতা ও আশাবাদ তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ ও সহায়ক কমিউনিটি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।




