মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
রাজনীতি

নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা: কেউ নাখোশ, কেউ খুশি!

বিশেষ প্রতিনিধি ১ সপ্তাহ আগে বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫৮০১ বার পঠিত
younus

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে একদল মানুষের স্লোগান ও কটূক্তির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটিকে অনেকে একজন সম্মানিত ব্যক্তির প্রতি অগ্রহণযোগ্য আচরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ইউনূসের শাসনামলে দেশে সংঘটিত মব সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভুক্তভোগীদের বিচার না পাওয়ার অভিযোগ সামনে এনে কেউ কেউ তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখাতে নারাজ।

১২ অক্টোবর নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে থাকা ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজন চিৎকার করে নানা অভিযোগ করছেন। তাঁদের কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সন্ত্রাসী’, ‘এখানে কেন এসেছেন?’ তাঁরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও তোলেন। তবে ভিডিওতে করা অভিযোগগুলোর সত্যতা ওই দৃশ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

এক পক্ষের বক্তব্য: রাজনৈতিক ক্ষোভ থাকলেও হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের মতে, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সাবেক সরকারপ্রধানের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকার মানুষের রয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দরের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কাউকে ঘিরে অপমান করা, গালিগালাজ করা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা প্রতিবাদের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না।

এই অবস্থানের সমর্থকদের যুক্তি, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই থাকুক, তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করার প্রবণতাকে স্বাভাবিক করে তুললে তা ভবিষ্যতে অন্যদের ক্ষেত্রেও একই আচরণের পথ খুলে দিতে পারে।

ঘটনার পর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও ইউনূসকে হেনস্তা করার নিন্দা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে।

অন্য পক্ষের প্রশ্ন: মব সহিংসতার শিকার মানুষের কথা কে বলবে?

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা। তাঁদের বক্তব্য, ইউনূসের শাসনামলে মানুষ যখন দলবদ্ধ হামলা, মারধর, অপমান ও প্রাণহানির অভিযোগ তুলেছেন, তখন এসব ঘটনার প্রতিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হয়েছিল, সেই প্রশ্নও আলোচনায় থাকা উচিত।

এই পক্ষের কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, যে সময়ে সাধারণ মানুষ মব সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সে সময়কার সরকারের প্রধান হিসেবে ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। তাঁদের মতে, এখন তাঁর প্রতি মানুষের ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া বুঝতে হলে অতীতের ঘটনাপ্রবাহ, ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা এবং বিচারপ্রাপ্তির প্রশ্নও বিবেচনায় নিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রতিক্রিয়ার একটি অংশে ইউনূসের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর বদলে তাঁর শাসনামলের বিতর্কিত ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টানা হচ্ছে। কেউ কেউ একে ‘কর্মফল’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন। তবে এসব মন্তব্য জনমতের একটি অংশের প্রতিফলন; এগুলো দিয়ে সামগ্রিক জনমতের অবস্থান কিংবা অতীতের সহিংসতার নির্দিষ্ট সংখ্যা ও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

‘মবের বিরুদ্ধে অবস্থান’ কি সবার জন্য একই হওয়া উচিত?

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন: মব সহিংসতার বিরোধিতা কি কেবল নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মেলে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার জন্য একই নীতি অনুসরণ করা হবে?

যাঁরা ইউনূসকে হেনস্তার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের বক্তব্য—কোনো ব্যক্তির শাসনামল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তাঁর প্রতি জনতার অপমানজনক আচরণকে সমর্থন করা যায় না। অন্যদিকে, সমালোচকদের বক্তব্য—ইউনূসের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি তাঁর সরকারের সময়ে মব সহিংসতার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়ার প্রশ্নও সমান গুরুত্বে সামনে আনতে হবে।

দুটি অবস্থানের মধ্যেই জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। তবে অতীতের সহিংসতার অভিযোগ এবং নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া হেনস্তা দুটি পৃথক বিষয়। একটির বিচার না হওয়ার ক্ষোভ অন্য ঘটনাকে ন্যায়সংগত করে না। একইভাবে, ইউনূসকে হেনস্তার বিরোধিতা করার অর্থও তাঁর শাসনামলের সমালোচনা বা জবাবদিহির দাবি থেকে সরে আসা নয়।

সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রতিফলন

নিউইয়র্কের ঘটনাটি তাই শুধু একজন সাবেক সরকারপ্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভের বিষয় হয়ে থাকেনি। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ, মব সহিংসতার স্মৃতি, বিচারহীনতার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতি জনসাধারণের ক্ষোভ প্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

একদিকে ইউনূসের প্রতি আচরণের নিন্দা, অন্যদিকে তাঁর শাসনামলের সমালোচনা—দুটি বিষয়কে পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করানোর বদলে আলাদাভাবে বিবেচনা করাই জরুরি। মব সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কাউকে জনতার হাতে হেনস্তা করার প্রবণতাও প্রত্যাখ্যান করা জরুরি।

গণতন্ত্রে বিশ্বাসীরা বলছেন, মবের শিকার ব্যক্তি কে—তা দিয়ে মব সহিংসতার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিই দুর্বল হয়ে পড়ে। মবের শিকার আওয়ামী লীগের কেউ হলে সেটা ‘ ক্ষোভের বহি:প্রকাশ’ আর ‘আওয়ামী বিরোধী’ কেউ হলে সেটা ‘সন্ত্রাস’ এই মতবাদ সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *