কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত এলাকায় টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ছয় পর্যটক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একটি পাঁচ বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে নিহত ৬ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। প্রাথমিকভাবে নিহত সবাই পর্যটক বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। এর আগে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার কলাতলী থেকে রিসোর্টটির দূরত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, রিসোর্টটির তিনটি তলাই কাঠের তৈরি ছিল। আগুনে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট কাজ করে।
আহত ছয়জন, হাসপাতালে ভর্তি পাঁচজন
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। পরে মৃতদের মধ্যে এদের মধ্যে কেউ আছেন কি না জানা যায়নি।
আহতদের প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন পর্যটকেরা
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন বের হতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে। তবে অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সকাল ৮টার দিকে তারা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানানো হয়েছে।




