যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডাল্টনে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে ডাল্টন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে ব্যঙ্গ করেন।
মঞ্চে কাল্পনিকভাবে কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট পদে আগ্রহী কি না, তা জিজ্ঞাসা করার ভঙ্গি করেন তিনি। এ সময় তাঁর মন্তব্যে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটাই নিরুত্তাপ।
২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।
সমাবেশে ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্যে প্রায় সাত মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণার ধরন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন অধিকার সংগঠন তাঁর কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় করতে পারে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংস্থা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি বৃদ্ধির পেছনে তাঁর কঠোর অভিবাসননীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের ভূমিকা রয়েছে।




