এক ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়, পরের ম্যাচেও একই চিত্র—বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একের পর এক পরাজয়ে হতাশ সমর্থকরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর আফগানিস্তানের কাছেও ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। টানা দুই পরাজয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দলের। ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানো এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখতে না পারায় আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে টাইগাররা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান প্রতিরোধ গড়েন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ৯৩ রানের জুটি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখালেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।
ইমন ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন। সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান। নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান ৩১ রানে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান।
জবাবে শুরুতে দুই উইকেট হারালেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। রহমত শাহর অপরাজিত ৬৭ ও হাশমতউল্লাহ শহীদির ৩৬ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৫.৩ ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। হাতে তখনো ছিল ৮৭ বল।
এর আগে ১৭ অক্টোবর সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগেছিল বাংলাদেশ। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে ৯৬ রানে তিন উইকেট হারালেও পরে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় দল। ফলে ৯৯ রানের বড় পরাজয় নিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের সিরিজ অভিযান।
দুই ম্যাচেই দলের ব্যর্থতার কেন্দ্রে ছিল ব্যাটিং। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে যেমন ব্যাটাররা দায়িত্ব নিতে পারেননি, তেমনি আগে ব্যাটিং করেও প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সংগ্রহ দাঁড় করানো যায়নি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইমন ও সাইফের জুটি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। বোলাররা শুরুতে উইকেট পেলেও পরে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের আটকে রাখতে পারেননি।
এই ব্যর্থতার ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী শুক্রবার শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে, টানা দুই হারে সিরিজ শেষ হওয়ায় দলের সামর্থ্য, ব্যাটিং পরিকল্পনা ও চাপের মুখে খেলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্স উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা, শুধু ব্যক্তিগত ভালো ইনিংস নয়—দলীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা, ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এবং চাপের মুহূর্তে দায়িত্বশীল ক্রিকেটের মাধ্যমে দ্রুত নিজেদের ফিরে পাবে টাইগাররা।




