মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
বাংলাদেশ

‘আপনারাই আমার শক্তি, মানুষের সেবা করে যেতে চাই’ : সংবর্ধনার জবাবে ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র এলিজা আজাদ রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি ১ দিন আগে রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪০৭১ বার পঠিত

সিডনি: অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র এলিজা আজাদ রহমানকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর অর্জন, কমিউনিটির প্রতি অবদান এবং অভিবাসী নারী হিসেবে নেতৃত্বের অবস্থানে পৌঁছানোর পথচলাকে উদ্‌যাপন করতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর সাফল্য অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের এবং বিশেষ করে নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার।

সংবর্ধনার জবাবে আবেগঘন বক্তব্যে এলিজা বলেন, “আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই—আমি আপনাদের ভালোবাসি।” জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে কমিউনিটির মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও পাশে থাকার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর জীবনের প্রকৃত অর্জন অর্থ-সম্পদ নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় ক্যামডেন সিভিক সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কমিউনিটি লিডার গামা আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. শাখাওয়াৎ নয়ন। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. মো. সিরাজুল হক, অজয় দাস গুপ্ত, কমিউনিটি নেতা মো. শফিকুল আলম, আব্দুল্লা আল নোমান শামীম, ক্যামডেন শাখা লেবার পার্টির প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান কালকাট, কাউন্সিলর আশিকুর রহমান, কাউন্সিলর শেরিন আক্তার, ড. মাসুদুল হক, রহমত উল্লাহ, আব্দুল মতিন, মাহিকা রহমানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, এলিজা আজাদ রহমানের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়া কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব এবং নারীর নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি কমিউনিটির অন্য নারীদেরও স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, একজন অভিবাসী হিসেবে নতুন সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার মধ্য দিয়ে এলিজা তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁরা আরও বলেন, ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র হিসেবে এলিজার দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ক্যামডেনের সব বাসিন্দার নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই তাঁর এ অর্জন বাংলাদেশি ও অস্ট্রেলীয়—উভয় কমিউনিটির জন্য আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ। বক্তারা তাঁর কর্মদক্ষতা, মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক এবং দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার মাধ্যমে ডেপুটি মেয়রের পদমর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যাশা জানান।  

সংবর্ধনার জবাবে এলিজা আজাদ রহমানের বক্তব্যে ছিল কৃতজ্ঞতা, আবেগ ও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে নিজের পরিবার হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তাঁদের প্রত্যেকের উপস্থিতি তাঁর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, রবিবারের সন্ধ্যায় নিজেদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে যাঁরা তাঁকে সম্মান জানাতে এসেছেন, তাঁদের ভালোবাসা তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন। তাঁর ভাষায়, জীবনের ভালো ও খারাপ—কোনো সময়েই এই মানুষগুলো তাঁকে একা হতে দেননি।

নিজের পথচলার কথা বলতে গিয়ে এলিজা বলেন, প্রতিটি ধাপেই নানা চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কমিউনিটির মানুষের সহযোগিতা তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, জীবনের কোনো অর্জনই একা সম্ভব নয়; মানুষের ভালোবাসা ও পাশে থাকার মধ্যেই প্রকৃত শক্তি নিহিত। নিজের সাফল্যের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি অর্থ-সম্পদের চেয়ে মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে বড় করে দেখেন। তাঁর কথায়, “আমার উপার্জন হলো আপনারা, আপনাদের ভালোবাসা এবং আপনাদের মতো মানুষ। আপনারাই আমার শক্তি।”

এলিজা বলেন, তিনি সারা জীবন মানুষের সেবা করে যেতে চান। জনগণের সেবক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি কমিউনিটির মানুষকে যেকোনো প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। মানুষের পাশে থাকার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এলিজা বলেন, নতুন দেশে তাঁর পথচলার শুরুতে সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা তিনি জানতেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে তিনি জীবনের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে অর্জন করেছেন।

বক্তব্যে তিনি তাঁর স্বামী ও মেয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শুধু রক্তের সম্পর্কই মানুষকে আপন করে তোলে না; মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অনুভূতি ও হৃদয়ের বন্ধনই প্রকৃত সম্পর্ক গড়ে তোলে। অস্ট্রেলিয়ায় আসা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথচলায় স্বামী ও শিক্ষক ড. মাসুদুল হকের অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নিজের আবেগের কথা বলতে গিয়ে এলিজা বলেন, আনন্দ কিংবা কষ্ট—দুই ক্ষেত্রেই চোখের জল মানুষের অনুভূতির প্রকাশ। কান্নাকে তিনি দুর্বলতা হিসেবে দেখেন না; বরং জীবনে এত মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার সৌভাগ্যের প্রকাশ হিসেবে দেখেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে তাঁকে তাঁদের প্রার্থনায় রাখার অনুরোধ জানান এবং বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান তাঁকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার প্রেরণা দেয়।

মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানের শেষাংশে এলিজা আবারও উপস্থিত সবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, মানুষের সেবা করাই তাঁর লক্ষ্য এবং জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সবার জন্য কাজ করতে চান।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়েও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংবর্ধনায় উপস্থিত অতিথিরা তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।

এলিজা আজাদ রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

এলিজা আজাদ রহমান, যিনি ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ‘টুম্পা’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার আদি নিবাসী। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলামের কন্যা। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের সময় কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অস্ট্রেলীয় লেবার পার্টির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।

তাঁর এ অর্জন স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি নারীর নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসী পটভূমি থেকে উঠে এসে স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ তাঁর দীর্ঘ পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *