ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে ‘ভুক্তভোগী’ হওয়ার কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশের পর ময়মনসিংহের ভালুকায় নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তাঁর বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেও সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার দুপুরে সাথী আক্তারকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার রাতে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ফেসবুক লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন।
সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেন। রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি দুটি লাইভ করেন। ভিডিও দুটিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কাকে ভোট দিলাম, বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি। তাঁর মতে, বক্তব্যটি বাক্স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখেই গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরলে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের একটি ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে তা ঠেকাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। সাথী আক্তারের জামিনের বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।




