ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবলে দেশে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে প্রাণহানির তালিকা, বাড়ছে হাসপাতালে রোগীর চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ জনে। আর বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ হাজার ৪১৫ জন ডেঙ্গু রোগী। অন্যদিকে, আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২ জন।
ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক আক্রান্ত
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৯৯ জন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ১১২ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যান বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০-তে পৌঁছানো পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিকটি সামনে এনেছে।
প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা ঠেকাতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে।




