মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
বাংলাদেশ

ড. ইউনূস সরকারের দেড় বছর: উপদেষ্টাদের দুর্নীতি  নিয়ে সরব দুদক

বিশেষ প্রতিনিধি ১ মাস আগে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৯৯৬ বার পঠিত

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপদেষ্টা ও তাদের ঘনিষ্টজনদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে দুই হাজারের বেশি লিখিত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাপক দুর্নীতির জট খুলতে শুরু করেছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। ড. ইউনূসসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপদেষ্টা ও তাদের ঘনিষ্টজনদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে দুই হাজারের বেশি লিখিত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ট ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের ‘গ্রিন গ্রুপ’-এ বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া তার দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে।

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. ইউনূস অন্তত চারটি দেশে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে। নরওয়েতে তার নিজ অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭৪ কোটি টাকা জমা হওয়ার একটি লিখিত দলিল পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রামীণ ফোনের বহুজাতিক কোম্পানি টেলিনর থেকে এই অর্থ তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এবং ইউনূস আমলে টেলিনর বেশ কিছু বাড়তি সুবিধা পেয়েছিল।

আরেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে। বিচারক, আইন কর্মকর্তা, সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ‘জামিন বাণিজ্য’ ও ‘বদলি বাণিজ্যের’ মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সুইস ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় বেনামে সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্যও দুদকের কাছে জমা হয়েছে।

প্রভাবশালী উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর বিরুদ্ধে আট হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুলের বিপুল সম্পত্তি বিক্রি করে রিজওয়ানার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকী দুবাইয়ে পাচার করেছেন এবং সেই অবৈধ সম্পদ দিয়ে দুবাই ও লন্ডনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার সময়ে হামের টিকা আমদানির অভাবে হাজারো শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপদেষ্টা থাকাকালীন নিকটাত্মীয়ের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে তিনি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন।

ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই ড. ইউনূস সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে দেশবাসীকে মারাত্মক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন বলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত কিছুদিন আগে হাইকোর্ট ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর ছাড়ের সুযোগটি বাতিল করে কর পরিশোধের রায় দেন, যেখানে ৬৬৬ কোটি টাকার বকেয়া কর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ড. ইউনূস সরকারের নানা গোপন অপকীর্তি ও দুর্নীতির বিষয়টি জনসমক্ষে আসতে শুরু করে।

দুদকের অবস্থান ও জনগণের প্রতিক্রিয়া

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু-একজন বাদে প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে আইনানুগ অনুসন্ধান ও তদন্ত চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, অতীতে ড. ইউনূসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ আদালতে গেলে নানা অজুহাতে তা খারিজ হয়ে গেলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল দুদকের এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পদক্ষেপই পারে জনগণের হারানো অধিকার ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন