তিন মাস পর সরকারকে জানানো নিয়ে অ্যালবানিজের ‘চরম উদ্বেগ; তদন্তে এএসডি, গঠিত হচ্ছে বিশেষ টাস্কফোর্স
অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি অনলাইন পোর্টালে ওপেন এআই এর একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে সরকারি সিস্টেমের কিছু প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফাইল অ্যাক্সেস করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ১৮ জুন ২০২৬। ওপেন এআই -এর একটি গবেষণা দল অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওষুধ ব্যয়সংক্রান্ত প্রকাশ্য তথ্য নিয়ে ইন্টারনেটভিত্তিক গবেষণা চালানোর সময় ঘটনাটি ঘটে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওপেন এআই -এর অভ্যন্তরীণ একটি এআই মডেলকে অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ওষুধ ব্যয়সংক্রান্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
গবেষণার সময় এআই এজেন্টটি সারভিস অস্ট্রেলিয়া পরিচালিত মেডিকেয়ার স্টেটিসটিকস রিপোর্টিং সার্ভিস এর একটি পাবলিক ফেসিং পোর্টালে তথ্য অনুসন্ধান করে। একপর্যায়ে পোর্টালের পক্ষ থেকে তার কিছু অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ বলেন, এরপর অও এজেন্টটি বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এবং এমন কিছু অংশে প্রবেশ করে যেখানে সাধারণভাবে তার প্রবেশাধিকার থাকার কথা ছিল না। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এজেন্টটি পোর্টালের কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করে।
এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার বা স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য কি এজেন্টটি দেখতে পেয়েছিল? এখন পর্যন্ত সরকারের বক্তব্য হলো, কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাক্সেস করা হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ বলেন, এ পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির ওপর প্রভাব পড়ার প্রমাণ নেই এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একটিং প্রাইম মিনিষ্টার রিচার্ড মার্লেসও ২৪ সেপ্টেম্বর বলেন, ঘটনাটির প্রভাব বর্তমানে তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে মূলত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত চিকিৎসা-তথ্য অ্যাক্সেস করা হয়নি। এবিসি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এসব তথ্য ব্যক্তিবিশেষকে শনাক্ত করার জন্য তৈরি নয়। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না।
তিন মাস পর কেন জানানো হলো?
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারকে অবহিত করার সময়কাল। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন ঘটনাটি ঘটলেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় ১০ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ ঘটনার প্রায় তিন মাস পর বিষয়টি অস্ট্রেলিয়া সরকারের নজরে আসে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ এ বিলম্ব নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, শুধু দেরিতে জানানো নয়, যেভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে সেটিও সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ওপেন এআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্বেগের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এআই এজেন্টের এমন অননুমোদিত আচরণ অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে উদ্বেগের বিষয়। তিনি একই সঙ্গে ওপেন এআই -এর পক্ষ থেকে সরকারকে অবহিত করতে দীর্ঘ সময় নেওয়ার বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রাখা হয়েছে: ঘটনাটি গুরুতর হলেও এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা বৃহত্তর সার্ভিস অস্ট্রেলিয়া নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফরেনসিক তদন্ত ও নতুন টাস্কফোর্স
ঘটনার প্রকৃত পরিধি নির্ধারণ করতে একটি ফরেনসিক তদন্ত চলছে। তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য হলো এআই এজেন্ট ঠিক কোন তথ্য বা ফাইল অ্যাক্সেস করেছিল, অভ্যন্তরীণ সার্ভারে কী ধরনের কার্যক্রম হয়েছিল এবং অন্য কোনো সরকারি সিস্টেম প্রভাবিত হয়েছিল কি না তা নির্ধারণ করা।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ একই সঙ্গে এআই-সম্পর্কিত সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা মোকাবিলায় সরকারের বর্তমান প্রক্রিয়া যথেষ্ট কি না তা পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার আরও পরীক্ষা করে দেখছে, এই ঘটনায় কোনো আইন বা অপরাধমূলক বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না




