মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
ব্রেকিং

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা: শিক্ষার্থী ও ব্যাকপ্যাকারদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ

বিশেষ প্রতিনিধি ১ মাস আগে বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬৪৭৭ বার পঠিত

পর্যটক বা ভিজিটর ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে তা দীর্ঘায়িত করার পথ বন্ধ করা হচ্ছে। এখন থেকে প্রতিটি ভিজিটর ভিসার সাথে বাধ্যতামূলকভাবে ‘নো ফার্দার স্টে’ প্রোভিশন জুড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে কেউ আর দেশটিতে বসেই পার্টনার ভিসাসহ অন্য কোনো ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

সিডনি: অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। দেশের নিট বৈদেশিক অভিবাসন একটি নির্দিষ্ট নাগালে নামিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার এবং ভিজিটর ভিসার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় দেশটির স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রী টনি বার্ক এই নতুন নীতিমালা তুলে ধরেন।

অভিবাসন হ্রাসের মূল লক্ষ্য ও পরিসংখ্যান

সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে নিট বৈদেশিক অভিবাসন কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজারে এবং পরবর্তীতে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে তা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত শেষ এক বছরে নিট অভিবাসন কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জনে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তা সত্ত্বেও অভিবাসন খাতের এই লাগাম টেনে ধরতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিল আলবানিজ সরকার।  

পরিবার বা ডিপেন্ডেন্ট নিষিদ্ধ: এখন থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীরা সপরিবারে (স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান) অস্ট্রেলিয়ায় আসার সুযোগ হারাচ্ছেন। তবে পিএইচডি গবেষক এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ছাড় রাখা হয়েছে।

‘ভিসা হপিং’ বন্ধ: শিক্ষার্থীরা এখন থেকে ইচ্ছামতো কোর্স বদল বা বারবার ভিসা নবায়ন করতে পারবেন না। শুধুমাত্র উচ্চতর শিক্ষাস্তরে উন্নীত হলেই (যেমন ব্যাচেলর থেকে মাস্টার্স) কেবল ভিসা বাড়ানোর আবেদন করা যাবে।

ব্যাকপ্যাকার বা ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় ব্যালট সিস্টেম

কৃষি ও পর্যটন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কিং হলিডে বা ব্যাকপ্যাকার ভিসার নিয়মেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে । দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের জন্য ব্যাকপ্যাকার ভিসার মেয়াদ বাড়াতে এবার একটি লটারি বা ব্যালট সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।

কোটা হ্রাস: এখন থেকে মাত্র ৪৫,০০০ জন ব্যাকপ্যাকার দ্বিতীয় বছর এবং মাত্র ৫,০০০ জন তৃতীয় বছর দেশটিতে থাকার সুযোগ পাবেন (যা আগে যথাক্রমে ৫৭,০০০ এবং ৩১,০০০ ছিল)। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক কাজের শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।

ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফার্দার স্টে’ শর্ত

পর্যটক বা ভিজিটর ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে তা দীর্ঘায়িত করার পথ বন্ধ করা হচ্ছে। এখন থেকে প্রতিটি ভিজিটর ভিসার সাথে বাধ্যতামূলকভাবে ‘নো ফার্দার স্টে’ প্রোভিশন জুড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে কেউ আর দেশটিতে বসেই পার্টনার ভিসাসহ অন্য কোনো ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

দক্ষ অভিবাসনে অগ্রাধিকার ও কড়া আইন

অগ্রাধিকার ক্ষেত্র: দক্ষ অভিবাসন কার্যক্রমে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ শিল্প শিক্ষা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রতিরক্ষা, খনিজ সম্পদ, কৃষি ও মৎস্য চাষ খাতের আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে হাউজিং সংকট মেটাতে কনস্ট্রাকশন খাতের পেশাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অবৈধ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৭৭,০০০ মানুষ অবৈধভাবে বা মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে ১০০ নতুন কমপ্লায়েন্স অফিসার নিয়োগ এবং মেলবোর্নের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারকে ডিটেনশন সেন্টারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুয়া ও দালাল প্রকৃতির অভিবাসন এজেন্টদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অতি-ডানপন্থী ‘ওয়ান নেশন’ দলের নেত্রী পলিন হ্যানসন দাবি করেছেন যে তাদের চাপের মুখেই সরকার অভিবাসন কমাতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে নিট অভিবাসন ১ লাখ ৭০ হাজারে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।

মন্ত্রী টনি বার্ক অবশ্য রাজনৈতিক চাপের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, দেশের বর্তমান আবাসন ধারণক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই এই সুদূরপ্রসারী সংস্কার আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন