জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে তারেক রহমানের সরকার। নতুন দরে সোমবার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হবে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি খরচের চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানায়। এর আগে জুনে তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও ওই দাম বহাল ছিল।
নতুন সিদ্ধান্তে মার্চের তুলনায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৫ টাকা, কেরোসিনের দাম ৪৩ টাকা, পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৫ টাকা বেড়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবের দাবি মন্ত্রণালয়ের
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও দেশে একই হারে দাম বাড়ানো হয়নি। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামের পার্থক্য, পাচারের ঝুঁকি, এলএনজি খাতে ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ব্যয়কেও মূল্য সমন্বয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একসঙ্গে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ ভোক্তা, পরিবহনশ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ভাড়া ও পণ্য পরিবহনের খরচের ওপর পড়তে পারে।
আগেও কয়েক দফা বেড়েছে দাম
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।
এরপর জুনে কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।
সোমবার নতুন দর কার্যকর হলে কয়েক মাসের ব্যবধানে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বড় পরিমাণে বাড়বে।
২০২৪ এর পর থেকে দাম বাড়ানোর নতুন ফর্মুলা
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, ভ্যাট ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়।
রোববারের প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কাঠামোর বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। এতে শোধনাগার থেকে খালাসের মূল্য, ভ্যাট, শুল্ক, বিপণন কোম্পানির মার্জিন, পরিবহন ব্যয় ও ডিলার-এজেন্ট কমিশন যুক্ত করে ভোক্তা পর্যায়ের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাম্পে ভিড়, ক্ষোভ চালকদের
এদিকে, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগে পুরোনো দামে জ্বালানি তেল নিতে রংপুর ও যশোরের পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে চালকেরা পাম্পে ভিড় করেন। দাম বাড়ানোর পরিমাণ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চালকদের কয়েকজন বলেন, লিটারপ্রতি দুই-চার টাকা বাড়ানো হলেও বিষয়টি মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু একবারে ২০ টাকা বাড়ানোয় তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষেরাও বাড়তি খরচ সামলানো কঠিন হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।




