মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
আন্তর্জাতিক

ভারতে জেন-জি আন্দোলনের চাপে বন্ধ হচ্ছে দিল্লির যন্তর মন্তর, প্রতিবাদের সুযোগের অপব্যবহারই কি কারণ?

ডেস্ক রিপোর্ট ১ সপ্তাহ আগে শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪১৭ বার পঠিত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থানটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সাম্প্রতিক জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিবাদের সুযোগ ও প্রশাসনের নমনীয়তাকে কেন্দ্র করে তৈরি পরিস্থিতিই কি শেষ পর্যন্ত যন্তর মন্তরের দরজা বন্ধ হওয়ার পথ তৈরি করেছে?

দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে আর আগের মতো বিক্ষোভ করা যাবে না। আন্দোলনকারীদের অন্য তিনটি স্থানে সমাবেশের জন্য যেতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সংসদ ভবন থেকে অনেক দূরে, আর রামলীলা ময়দানের মতো বড় জায়গায় সমাবেশ করতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে সিদ্ধান্তটি শুধু একটি প্রতিবাদস্থলের পরিবর্তন নয়, বরং রাজধানীতে আন্দোলন আয়োজনের সুযোগ ও পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে।

জেন-জি আন্দোলন ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক

২০২৬ সালের গ্রীষ্মে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যন্তর মন্তরে বড় বিক্ষোভের আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও আন্দোলনটিকে আলোচনায় নিয়ে আসে।

এরপর যন্তর মন্তরে পুলিশের কড়াকড়ি বাড়ে এবং ব্যারিকেড দিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়। গত সপ্তাহে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিজেপির সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, বড় সমাবেশের পর আন্দোলনকারীদের দাবি ও কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রশাসনের মধ্যে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। আগের আন্দোলনে নমনীয়তা দেখানোর পর আরও কঠোর ও বিতর্কিত দাবি নিয়ে রাজপথে নামার প্রবণতা প্রশাসনকে উদ্বিগ্ন করে থাকতে পারে। তবে যন্তর মন্তর বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে এই কারণগুলোই নির্ধারক ছিল, এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

প্রতিবাদের অধিকার, নাকি দাবির সীমা নিয়ে সংঘাত?

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা, পদত্যাগের দাবি কিংবা নীতিগত পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো আন্দোলনের দাবি কতটা যুক্তিসংগত, কর্মসূচি কতটা শান্তিপূর্ণ এবং অন্য নাগরিকদের চলাচল ও জনজীবনে তার প্রভাব কতটা—এসব প্রশ্নও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিবেচ্য হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে এই ভারসাম্য। সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বড় সমাবেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের জন্য সংসদ ও নীতিনির্ধারকদের কাছাকাছি অবস্থান করে দাবি তুলে ধরার সুযোগও তাৎপর্যপূর্ণ।

সমালোচকদের আশঙ্কা, কয়েকটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং যন্তর মন্তরে বছরের পর বছর ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসা সাধারণ মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শ্রমিক, কৃষক ও অধিকারকর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিন দশকের প্রতিবাদের ঐতিহ্যে ছেদ

যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল হিসেবে যাত্রা শুরু ১৯৯৩ সালে। এর আগে পুরোনো সংসদ ভবনের বিপরীতে বোট ক্লাবের চত্বরে বড় সমাবেশ হতো। সেখানে বিক্ষোভ বন্ধ হওয়ার পর যন্তর মন্তরের পাশের সড়ক হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীদের গুরুত্বপূর্ণ জমায়েতস্থল।

২০০৮ সালে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচারের দাবিতে অধিকারকর্মীরা সেখানে মাসের পর মাস অবস্থান করেন। কৃষক, শিক্ষার্থী, সাবেক সেনাসদস্য ও বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের কর্মীরাও নিজেদের দাবি নিয়ে এই স্থানে সমবেত হয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, বন অধিকারসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আলোচনা ও সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্র হিসেবেও যন্তর মন্তরের ভূমিকা ছিল।

২০১৭ সালে পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সেখানে বিক্ষোভ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে।

এবারও যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ফলে স্থানটির ভবিষ্যৎ এখনো চূড়ান্ত নয়।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে কি সংকুচিত হবে গণতান্ত্রিক পরিসর?

দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত অবকাঠামোসহ বিকল্প প্রতিবাদস্থল চিহ্নিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিকল্প স্থানগুলোর দূরত্ব, খরচ ও সহজলভ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও সীমিত অর্থের সংগঠনগুলোর পক্ষে এসব স্থানে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে।

সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের অভিজ্ঞতা প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে ঠেলে দিয়ে থাকলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব; একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ বজায় রাখাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।

যন্তর মন্তরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাকে তাই শুধু একটি আন্দোলনের পরিণতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একদিকে প্রতিবাদের সুযোগ ব্যবহারের সীমা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তিতে ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি করছে।

শেষ পর্যন্ত যন্তর মন্তরের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনের কারণে তৈরি উত্তেজনা যদি এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল হারিয়ে যাওয়ার পথে বড় ভূমিকা রেখে থাকে, তাহলে তার মূল্য দিতে হতে পারে শুধু জেন-জি আন্দোলনকারীদের নয়, বরং ভবিষ্যতে ন্যায়বিচারের দাবিতে সেখানে সমবেত হতে চাওয়া অসংখ্য সাধারণ মানুষকেও।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *