মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সজুড়ে আগুন, লুটপাট, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: গ্রেফতার ১২০০

ডেস্ক রিপোর্ট ১ সপ্তাহ আগে রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪৪১৬ বার পঠিত

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আগুন ক্রমেই ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসা লাখো মানুষের আন্দোলনে শনিবার উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির বিভিন্ন শহর। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিভিন্ন স্থানে সরকারি ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ফরাসি সরকার একে সহিংসতার বিপজ্জনক বিস্তার হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশজুড়ে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশের অন্তত ১৫০ সদস্য।

শনিবারের বিক্ষোভে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেন। বিকেলে প্যারিসের প্রধান মিছিলটি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল রাস্তায় আগুন জ্বালায়, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং বিভিন্ন দোকানপাটে হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কোথাও কোথাও পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করতে এবং লাঠিপেটা করতে দেখা যায়।

প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায়ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। বিভিন্ন দোকান লুট করা হয় এবং অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে পুড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজধানীর পাশাপাশি লিল, লিয়ঁ, গ্রেনোবল, মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আরও কয়েকটি শহরে সহিংসতা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। লিলে একটি অ্যাপল স্টোরে হামলা চালিয়ে পণ্য লুট করা হয়। প্যারিসে পোশাক ও খাদ্যপণ্যের দোকানেও লুটপাট চলে।

আগুনে পুড়ল ঐতিহাসিক ভবন

সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে লিমোজ শহরে। সেখানে নগর ভবনে লাগা বড় আগুনে ভবনটির ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে। একইভাবে লিয়ঁ শহরের পর্যটন দপ্তরের ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসেঁ। ঐতিহাসিক ও পরিচিত ভবনটিতে আগুন লাগার ঘটনাকে তিনি শহরের জন্য একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি দমকলকর্মীদের নিরাপদে আগুন নেভানোর কাজে বাধা দেয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গ্রেনোবল, আভিনিয়ঁ, পাউ, মন্টপেলিয়ে ও ভ্যালঁসসহ বিভিন্ন শহরেও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সাঁত এতিয়েন শহরে একটি ছোট বিস্ফোরক বিস্ফোরণে এক তরুণের হাত উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র রেজিস হুয়ানিকো। এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শিক্ষা সংকট থেকে রাজপথে জনঅসন্তোষ

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংকট। গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন লাইসেতে শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। আন্দোলনে যোগ দিয়েছে ২০১৮ সালে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোও। ওই আন্দোলন একপর্যায়ে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী গণবিক্ষোভে পরিণত হয়েছিল।

সরকার অবশ্য সংকট নিরসনে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। গত ৮ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অতিরিক্ত ৩ হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামেনি; বরং আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা বেড়েছে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ

এই সহিংসতা এমন এক সময়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যখন ফ্রান্স গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মেয়াদ শেষ হবে। জনমত জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মারিন ল্য পেন এবং কট্টর বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মেলঁশোঁ পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। তবে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগেরও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু তাঁর বক্তব্যকে বিপজ্জনক ও কৌশলী রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

লেকর্নু বলেন, পুলিশের ওপর অত্যন্ত তীব্র মাত্রার সহিংসতা চালানো হয়েছে। কিছু গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি হিসেবে বিক্ষোভকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে পারবে না।

অন্যদিকে মারিন ল্য পেন অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবিগুলোকে কট্টর বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাখোঁও সরকারি দপ্তর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নগর ভবনে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা এখন কেবল জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। রাজপথের ক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকার একদিকে জনঅসন্তোষ প্রশমনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সহিংসতা দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে শনিবারের ব্যাপক সংঘর্ষের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *