মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
অস্ট্রেলিয়া

পাইরেসির বিরুদ্ধে লড়াই থেকে বিশ্ববাজারের স্বপ্ন—বাংলা সিনেমার উত্তরণের পথ দেখালেন খোরশেদ আলম খসরু

আসিফ কবির ৩ দিন আগে শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫৯৩৪ বার পঠিত

সিডনিতে চলচ্চিত্রশিল্পের সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা  

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের অতীত ঐতিহ্য, বর্তমান সংকট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে সিডনিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় পাইরেসি ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক খোরশেদ আলম খসরু। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের কাছে বাংলা সিনেমা পৌঁছে দিতে নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর মতো আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে খসরু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গৌরবময় অতীত স্মরণ করেন এবং মানসম্মত নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি অর্ক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন কে এম ধ্রুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রহমত উল্লাহ। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন একেএম ফজলুল হক শফিক। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক গোলাম মোস্তফা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ সময় সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনার জবাবে খোরশেদ আলম খসরু চলচ্চিত্রশিল্পের এক কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্র থেকে অশ্লীল কাটপিস ও পাইরেটেড কনটেন্ট নির্মূলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তিনি জানান, যৌথ বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে অংশ নিয়ে দুই ট্রাকভর্তি পাইরেটেড কাটপিসের ক্যাসেট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করেছিলেন। এ ছাড়া পাইরেসির সঙ্গে জড়িত অসাধু সিনেমা হল মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫০টি মামলা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।চলচ্চিত্রের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সেই প্রচেষ্টার স্মৃতিচারণ করে খসরু শিল্পটির সুরক্ষা, আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

নিজের নির্মিত চলচ্চিত্র ‘জীবন যন্ত্রণা’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন খোরশেদ আলম খসরু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি প্রয়াস ছিল। ছবিটিতে প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না অভিনয় করেছিলেন। খসরু জানান, মান্নার মৃত্যুর আগে ছবিটির ডাবিং সম্পন্ন হয়নি। চলচ্চিত্রটি নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে

বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে খসরু জহির রায়হানের কালজয়ী ‘জীবন থেকে নেয়া’ এবং ‘বেহুলা’র কথা স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিবর্তন ও মানুষের জীবনবোধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের আরও সৃজনশীল, সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে খসরু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায় ৩৪ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সম্ভাব্য দর্শকগোষ্ঠীর কথা উঠে আসে।

তাঁর মতে, নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর মতো আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বাংলা চলচ্চিত্র পৌঁছে দিতে পারলে দেশের বাইরেও নতুন দর্শক তৈরি করা সম্ভব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে শুধু প্ল্যাটফর্মে ছবি প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন উন্নত চিত্রগ্রহণ, ডলবি সাউন্ড, মানসম্মত কালার কারেকশন, পেশাদার পোস্ট-প্রোডাকশন এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের উপযোগী উপস্থাপনা। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে চলচ্চিত্র নির্মাণের শুরু থেকে বিপণন ও পরিবেশনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে । বাংলা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে ঐতিহ্যকে সম্মান করার পাশাপাশি প্রযুক্তি, নীতিমালা, মানসম্মত গল্প এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশনাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

সিডনির মতো বহুসাংস্কৃতিক শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য বাংলা চলচ্চিত্র শুধু বিনোদন নয়; এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখারও একটি মাধ্যম। প্রবাসী দর্শকদের কাছে মানসম্মত চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়া গেলে একদিকে যেমন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার বাড়বে, অন্যদিকে নির্মাতাদের জন্য নতুন দর্শক ও আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আন্তর্জাতিক পরিবেশকদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রবাসী কমিউনিটিতে নিয়মিত প্রদর্শনী, সাবটাইটেল, ডিজিটাল বিপণন এবং স্বত্ব সংরক্ষণের মতো বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *