গাজীপুরে মাদ্রাসার এক পরিচালকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ছাত্রীর বাবা। এর আগে টঙ্গীতে আট বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে একটি মাদ্রাসায় অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনায় দেশব্যাপী উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
রোববার রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলাটি করা হয় বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন। পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলাম জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি সিকদার মার্কেটসংলগ্ন দারুল মা’আরিফ হোসাইনিয়া কওমি মাদ্রাসা ও মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক। অন্য আসামিরা হলেন তাঁর ভাই শরীফ মিয়া (৩৫), বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। তাঁদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর বওলা গ্রামে। তাঁরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া থাকেন।
মামলার এজাহারের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই ছাত্রী মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করছিলেন। ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তাঁকে জোর করে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়।
বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে অভিভাবকেরা আরিফুলকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ভয়ভীতি দেখানো অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসায় গেলে অন্য আসামিদের সহায়তায় ছাত্রীকে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যান আরিফুল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করেন।
জয়দেবপুর থানার ওসি আল মামুন বলেন, ছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।




